July 5, 2020

সাস্থ্য ও হেলথ কমপ্লেক্স

সাস্থ্য সম্পর্কে যে কোন সমস্যার সমাধান পেতে আমাদের সাথে থাকুন

পায়ের সুরক্ষা কৌশল

পায়ের যত্ন:
————-
পা মানব দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। ডায়াবেটিস রোগের কারণে পায়ে নানা প্রকার অসুবিধা দেখা দিতে পারে। স্নায়ুতন্ত্রের অকার্যকারিতা ও রক্ত সরবরাহের অসুবিধার কারণে পায়ের অনুভূতিশক্তি কমে যায় এবং পায়ে আঘাত লেগে সংক্রমণ দেখা দিতে পারে। এর ফলে পায়ে পচনশীল ঘাঁ হতে পারে, ফলে পা কেটে ফেলতে হয়। সকল ডায়াবেটিস রোগীকে তাই পায়ের বিশেষ যত্ন নিতে হয়।

পায়ের অসুবিধা এড়াতে কয়েকটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত:
———————————————————————–
১) খালি পায়ে হাঁটবেন না। নরম ও আরাম লাগে এমন জুতো পরে হাঁটবেন। মোজা না পরে কখনোই খালি পায়ে জুতো পরবেন না।
২) পায়ে অত্যধিক গরম জল ঢালবেন না।
৩) পায়ে যেন কোনো আঘাত না লাগে এবং ক্ষত না হয়। পায়ের রঙের কোনো পরিবর্তন চোখে পড়লে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।
৪) নিয়মিত পায়ের বাড়তি নখ কাটবেন, নখ কাটার সময় বিশেষভাবে সাবধানতা অবলম্বন করবেন, যাতে আঙ্গুলে আঘাত না লাগে।
৫) পায়ের কড়া নিজে কাটবেন না। ময়লা বা ভিজে মোজা পরবেন না।
৬) রক্ত চলাচলের জন্য রোজ নিয়মিত পায়ের ব্যায়াম করবেন।
৭) প্রতিদিন ভালভাবে পা ধুয়ে শুকনা কাপড় দিয়ে পা মুছে ফেলবেন। পায়ের দুই আঙ্গুলের মাঝের জায়গা যেন ভিজে না থাকে।
৮) ভালোভাবে দেখার জন্য আয়না ব্যবহার করতে পারেন বা অন্যের সাহায্য নিতে পারেন।

সতর্কতা:
———–
রাস্তা ঘাটে লোকজনের অযাচিত উপদেশ ও পত্রিকার সস্তা চিকিৎসার প্ররোচনায় হঠাৎ করে ইনসুলিন বন্ধ করবেন না। সে ক্ষেত্রে DKA অথবা HONK এর মতো জটিলতা হতে পারে এবং আপনাকে খুব দ্রুত মৃত্যুর দিকে নিয়ে যেতে পারে। অযথা ব্যথার ওষুধ খাবেন না। কারণ এতে কিডনি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ডায়াবেটিস নিয়ে অযথা ভয় পাবেন না অথবা ডায়াবেটিসকে অবহেলা করবেন না। অবহেলা করার জন্য ডায়াবেটিসের যেসব জটিলতা দেখা দেয় তা যেমন ব্যয়বহুল এবং একই সঙ্গে এর চিকিৎসা হতাশাব্যঞ্জক।
ডায়াবেটিস রোগী হিসাবে আপনার নিজের দায়িত্ব (গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণ) সম্পর্কে সচেতন হন, পরিবার পরিজনকে সচেতন করে তোলেন এবং শারীরিক পরিশ্রম করার জন্য সকলকে উদ্বুদ্ধ করে তোলেন।

আসুন, আমরা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ, শারীরিক পরিশ্রম করি এবং প্রথম অবস্থা থেকেই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করি। জীবনকে উপভোগ করার সঙ্গে সঙ্গে স্রষ্টার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি।
এমন কোন উপসর্গ থাকলে দ্রুত বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিন।