July 5, 2020

সাস্থ্য ও হেলথ কমপ্লেক্স

সাস্থ্য সম্পর্কে যে কোন সমস্যার সমাধান পেতে আমাদের সাথে থাকুন

ক্যান্সার প্রতিরোধের খাবার!2

 

 

1  /সবুজ শাক ফাইবার, ফোলেট, ক্যারোটিনয়েড ও ফ্লেভনয়েডের চমৎকার উৎস। এই যৌগ গুলোর বেশীর ভাগেরই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপকারিতা আছে যা কোষকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করে থাকে। ফলে ক্যান্সারের প্রতিরোধে সবুজ শাক অনেক উপকারি। তাছাড়া Lutein and zeaxanthin নামক ক্যারোটিনয়েড চোখের প্রতিরক্ষার কাজ করে এবং মেকুলার ডিজেনারেশন এর ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। যার কারণে অন্ধতার সমস্যা হতে পারে। ফলে বেশি বেশি করে সবুজ শাক সবজি খাওয়া ভাল।

2/. জাম জাতীয় ফল
স্ট্রবেরি, ব্লু বেরি এবং ব্ল্যাক বেরি হচ্ছে সত্যিকারের সুপার ফুড। এই সকল ফলে চিনি কম থাকে ও পুষ্টিতে সমৃদ্ধ থাকে। তাঁদের স্পন্দনশীল রঙের অর্থ এরা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরা, এর পাশাপাশি ফ্লেভনয়েড এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ভিটামিন ও থাকে। এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হৃদপিণ্ডের সুরক্ষা প্রদান করে এবং এর ক্যান্সার বিরোধী প্রভাব আছে। এছাড়াও শরীরের নিজস্ব অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এনজাইমকে উদ্দীপিত করে। জাম জাতীয় ফল খেলে ডায়াবেটিস, ক্যান্সার এবং cognitive decline এর ঝুঁকি হ্রাস করে এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে। সুতরাং জাম জাতীয় ফল শরীরের জন্য অনেক উপকার।

3/. পিঁয়াজ
নিয়মিত রসুন খেলে পাকস্থলীর ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়। পুষ্টিবিদদের মতে পিঁয়াজেরও রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধক উপাদান যা টিউমারের বেড়ে ওঠাকে বিলম্বিত করে। সুতরাং রান্নার ক্ষেত্রে পিঁয়াজ অনেক উপকারি।

4/. মাশরুম
আধুনিক খাবার হিসেবে বাংলাদেশে মাশরুমের ব্যাপক বিস্তৃতি ঘটছে। যে-সকল ব্যক্তি মাশরুম সংগ্রহ করে খায়, তারা মাইকোফেজিস্টস বা ‘মাশরুম খাদক’ হিসেবে পরিচিত। মাশরুম খোঁজার প্রক্রিয়াকে সাধারণতঃ মাশরুমিং বা মাশরুম শিকারী নাম বলা হয়। মাশরুমে রয়েছে ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদান। এছাড়াও রয়েছে পুষ্টি ও ভেষজগুণ যা রোধ করবে ক্যান্সার।

5/ বেদানা
ডালিম দেহের শ্রেষ্ঠতম হিতকর ফল। এ ফল কোষ্ঠ রোগীদের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। গাছের শিকড়, ছাল ও ফলের খোসা দিয়ে আমাশয় ও উদরাময় রোগের ওষুধ তৈরি হয়। ইহা ত্রিদোষ বিকারের উপশামক, শুক্রবর্ধক, দাহ-জ্বর পিপাসানাশক, মেধা ও বলকারক, অরুচিনাশক ও তৃপ্তিদায়ক। ডালিমের ফুল রক্তস্রাবনাশক। ডালিমে বিউটেলিক এসিড, আরসোলিক এসিড এবং কিছু আ্যলকালীয় দ্রব্য যেমন- সিডোপেরেটাইরিন, পেপরেটাইরিন, আইসোপেরেটাইরিন, মিথাইলপেরেটাইরিন প্রভৃতি মূল উপাদান থাকে। এই ফলটি বিভিন্ন রোগ উপশমে ব্যবহার হয়। এছাড়া বেদানায় ক্যান্সার প্রতিরোধী উপাদানের পাশাপাশি এতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণ এন্টিইনফ্লামেটরি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।

6/. কালো চকলেটে
কালো চকলেটেও রয়েছে এন্টি ক্যান্সার প্রপার্টি। ডার্ক চকলেটের পলিফেনলস ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক। তাছাড়া কালো চকলেট বা ডার্ক চকলেট নিয়ে একাধিক গবেষণায় বিশেষজ্ঞগণ দেখেছেন কালো চকলেট রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়, রক্তচাপ কমাতেও সাহায্য করে এবং রক্তনালী কোমল রাখে তাই হার্টের জন্য ভালো। তবে অধিক চকলেট খাওয়া যাবে না।

7/ সামুদ্রিক মাছ
সামুদ্রিক মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড হৃদযন্ত্রকে সক্রিয় ও কার্যক্ষম রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড হৃদযন্ত্রের রিদমকে দ্রুততর করে, ধমনীতে চর্বি জমার মাত্রাকে কমিয়ে দেয়, ধমনীতে পুরনো প্রদাহকে ঠাণ্ডা রাখতে এবং রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক। গবেষকেরা জানিয়েছেন হৃদরোগের ঝুঁকি কমানোর জন্য প্রতি সপ্তাহে একজন মানুষের ১৭৫০ মিলিগ্রাম ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড দরকার পড়ে। আর এই সামুদ্রিক মাছের মধ্যে বিদ্যমান থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাট এসিড যা প্রদাহ প্রতিরোধ করে ফলে দেহের ক্যান্সারের রূপ নিতে বাধা দেয়।

8/ খেজুর
ক্যান্সার প্রতিরোধ অবাক হলেও সত্য খেজুর ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। এক গবেষনায় দেখা যায় খেজুর পেটের ক্যান্সার প্রতিরোধ করে। আর যারা নিয়মিত খেজুর খান তাদের বেলায় ক্যান্সারের ঝুঁকিটা কমে যায় অনেকখানি।

এছাড়াও বীজ, দই, বাঁধাকপি ইত্যাদির ও ক্যান্সার বিরোধী কার্যকারিতা আছে। তাই আমাদের সকলের উচিত নিয়মিত এই খাবারগুলো খাদ্য তালিকায় যেন রাখি।